আত্মশক্তি ফাউন্ডেশন

বারবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন-১। আধুনিক যুগে ধর্মের কোন প্রয়োজন আদৌ আছে কি? 'মানবতা' ছাড়া মানুষের আর কোন ধর্মের দরকার নেই। ধর্ম মানেই কুসংস্কার, ভণ্ডামি আর ব্যবসার পণ্য। বিশ্বসভ্যতার সবচেয়ে বড় অভিশাপ হলো ধর্ম। বিশ্বশান্তি ও আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতির প্রধান অন্তরায় হলো ধর্ম।

উত্তর:

প্রশ্ন-২। বিশ্বসভ্যতার বিকাশধারায় পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মমতগুলোর প্রতিষ্ঠা, প্রবর্তক ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (হিন্দু, ইহুদি, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইসলাম, শিখ) 

উত্তর:

প্রশ্ন-৩। ধর্ম কী? Religion কাকে বলে?  জগতকল্যাণের জন্যই যদি ধর্ম হয়ে থাকে তবে ধর্ম নিয়ে এত গোলযোগ কেন?

উত্তর: যতোহভ্যুদয় নিঃশ্রেসসিদ্ধি স ধর্ম।

যা দ্বারা জাগতিক অভ্যুদয় ও পরমার্থিক কল্যাণ লাভ করা যায়, তাই ধর্ম। এটাই ধর্মের শাস্ত্রীয় শ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা। এছাড়া স্মৃতিশাস্ত্রে ধর্মের লক্ষণকে সংজ্ঞায়িত করা-

দশকং ধর্মলক্ষণম্।

অনুবাদ: 

স্বামী বিবেকানন্দ ধর্মের খুব চমৎকার একটা সংজ্ঞা দিয়েছেন-

"ধর্ম তাই যা মানুষকে পশুত্ব হতে মনুষ্যত্ব আর মনুষ্যত্ব হতে দেবত্বে উন্নীত করে।"

এই হলো ধর্ম। ধর্মে কোন অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নেই। এ হলো জীবন যাপনের আদর্শ পথ। 

প্রশ্ন-৪। সনাতন ধর্ম ও হিন্দু ধর্ম একই কথা, নাকি পার্থক্য আছে? সনাতন ধর্ম কাকে বলে? জগত পরিবর্তনশীল। তাহলে কোন ধর্ম কি আদৌ সনাতন বা শাশ্বত হতে পারে?

উত্তর:

প্রশ্ন-৫। সনাতন ধর্ম কি বহু ঈশ্বরবাদী নয়? একেক সম্প্রদায়ের ভগবান একেকজন। তাহলে স্পষ্টত ভগবানের সংখ্যা অনেক। অজস্র ভগবান আর দেবতার ধর্ম হিন্দুধর্ম একেশ্বরবাদী হয় কী করে?

উত্তর:

প্রশ্ন-৬। ঈশ্বর কে? ঈশ্বর সাকার নাকি নিরাকার? তিনি এক নাকি বহু? তিনি কোথায় থাকেন? 

উত্তর:

প্রশ্ন-৭। হিন্দুধর্মে ভগবান কে? ভগবান কতজন? মানুষ কি কখনো ভগবান হতে পারে? শ্রীকৃষ্ণই নাকি আসল ভগবান, বাকিরা নকল! 

উত্তর:

প্রশ্ন-৮। বহু ভগবান ও দেবতায় বিরক্ত হয়েই কি রাজা রামমোহন নতুন ধর্ম 'ব্রাহ্মধর্ম' প্রবর্তন করেছিলেন? ব্রাহ্মধর্ম কি হিন্দুধর্মের অন্তর্গত, নাকি পৃথক? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু ছিলেন, নাকি ব্রাহ্ম হয়ে গিয়েছিলেন?

উত্তর:

প্রশ্ন-৯। দেব-দেবী কারা? তাদের পূজা না করে শুধুমাত্র ভগবানেরই পূজা করা উচিত নয় কি? প্রকৃতপক্ষে, 'পূজা' কাকে বলে?

উত্তর:

প্রশ্ন-১০। আধুনিক যুগেও মূর্তিপূজা করা কি হাস্যকর নয়? মাটি বা পাথরের তৈরি মূর্তির তো কোন প্রাণ নেই। প্রতিবছর অসংখ্য মন্দিরে মূর্তিপূজা বিরোধী দুর্বৃত্তরা দেববিগ্রহ ভাংচুর করে। যে দেববিগ্রহ নিজের মূর্তিকেই দুর্বৃত্তের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না, সে তাঁর পূজারীদের রক্ষা করবে কী করে? মূর্তিপূজা কি হিন্দুধর্মে বাধ্যতামূলক? মূর্তিপূজা না করে মানুষের সেবা করাই কি শ্রেষ্ঠ নয়?

উত্তর:

প্রশ্ন-১১। এত টাকা খরচ করে মাটির প্রতিমা বানানো হয়। তাকে আবার "মা" বলে ডেকে পূজা করা হয়। তারপর সেই মা'কে জলে ভাসিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। কেন?

উত্তর:

প্রশ্ন-১২। জাতিসংঘের UNESCO কর্তৃক প্রাচীনতম লিখিত ও চর্চিত বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মশাস্ত্র 'বেদ' । প্রায় দশ হাজার বছরের প্রাচীন গ্রন্থ বেদ ও তার ভিত্তির ওপর দাড়িয়েঁ থাকা সনাতন ধর্মের কোন উপযোগিতা বর্তমানে আছে কি? বেদকে 'অখিলধর্মোমূলম্' অর্থাৎ বিশ্বের সকল ধর্মের মুল বলা হয়েছে, কেন? একে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা বা পূর্ণাঙ্গ বিশ্বব্যবস্থা বলার যৌক্তিকতা কী?

উত্তর:

প্রশ্ন-১৩। বেদ নাকি গীতা - কোনটা হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ? বেদ সনাতন ধর্মের মুল ভিত্তি। কিন্তু হিন্দুদের প্রত্যেক ঘরে গীতাগ্রন্থ থাকলেও কেন বেদগ্রন্থ দেখা যায় না? সবার কি বেদ পড়া উচিত নয়?

উত্তর:

প্রশ্ন-১৪। হিন্দুধর্মে গুরুদেবের আবশ্যকতা কতটুকু? বর্তমানে গুরুকেন্দ্রিক বহু সম্প্রদায়ে বিভক্ত হিন্দুসমাজ। এটা হিন্দুদের অনৈক্যের মূল একটি কারণ। সম্প্রদায় ও তাদের মতবাদগুলোর বাস্তব উপযোগিতা কতটুকু? ঐক্য কি আদৌ সম্ভব? কী সেই সূত্র? 

উত্তর:

প্রশ্ন-১৫। জাতিভেদ ও বর্ণবাদ হিন্দু জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় অভিশাপ। এত চেষ্টা করেও হিন্দুরা জাতিভেদের নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে পারছে না। বর্ণবাদ কি বেদসম্মত? গীতায় শ্রীকৃষ্ণ গুণ-কর্ম অনুযায়ী বর্ণবিচারের কথা বললেও হিন্দুরা কেন ভগবানের নির্দেশ অমান্য করে জন্ম অনুসারে বর্ণবিচার করে? প্রাচীন ভারতে কীরূপে বর্ণবিচার হতো? বেদ ও গীতায় চারটি বর্ণের কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে হিন্দুসমাজ শত শত পদবী, পেশা ও কাস্ট/জাতি-ভিত্তিক বর্ণে বিভক্ত। এতগুলো জাতি-বর্ণ কীভাবে সৃষ্টি হলো? কারা এবং কেন এগুলো সৃষ্টি করেছিল? এখনো এগুলো মেনে 'সবর্ণে বিবাহ' কতটা যুক্তিযুক্ত? এই প্রথার পরিণতিতে হিন্দুজাতি কতটুকু উপকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা হচ্ছে? বর্তমান হিন্দুদের করণীয় কী?

উত্তর:

প্রশ্ন-১৬। সনাতন ধর্মই সর্বশ্রেষ্ঠ সর্বজনীন ধর্ম কেন? এটা কীভাবে বৃহত্তর বিশ্বমানবতাকে বটবৃক্ষের মতো আশ্রয় দিতে পারে? কেন পারছে না?

উত্তর:

প্রশ্ন-১৭। সনাতন ধর্মকে কি 'পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান' বলা যেতে পারে? যৌক্তিকতা কী? ষোড়শ সংস্কার কী? 

উত্তর:

প্রশ্ন-১৮। শ্রীকৃষ্ণ নিজের মামীর সাথে প্রেম করতেন। সেটা নিষ্কাম নয়, কামুক প্রেমই ছিল। গোপীদের বস্ত্র চুরি করে গাছের ডালে বসে বাঁশী বাজিয়েছিলেন। ষোল হাজার একশত গোপীর সাথে রাসলীলা করেছিলেন। এমন চরিত্রহীন, লুইচ্চা ব্যক্তি হিন্দুদের ভগবান হয় কীভাবে?

উত্তর: প্রতিটি পরিণতি মূলত কোন কর্মের ফল হিসেবেই উপস্থিত হয়। বাঙালি হিন্দুর কিছু অতীত গুরুতর পাপের ফলশ্রুতিতেই বর্তমান দুরাবস্থা। এর একটি হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্রতম আদর্শ চরিত্রকে কলঙ্কিত করা। শ্রীকৃষ্ণের প্রতিটি কর্মই মানবজাতির জন্য অনুসরণযোগ্য আদর্শস্বরূপ। তিনি নিশ্চয়ই কোন নষ্টামির দৃষ্টান্ত রেখে যাননি। একথা মানতে অনেক হিন্দুর কষ্ট হবে যে, রাধা নামে শ্রীকৃষ্ণের কোন মামী ছিল না। রাধা নামে শ্রীকৃষ্ণের কোন প্রেমিকা ছিল না। রাধার সাথে কাম কলুষিত রাসলীলাও করেননি তিনি। রাধার কোন ঐতিহাসিক অস্তিত্বই নেই। গীতা, মহাভারত, হরিবংশ, ভাগবত পুরাণ কোন গ্রন্থেই রাধার অস্তিত্ব নেই, রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা তো অনেক দূরের কথা। তবে রাধার অস্তিত্ব আছে মধ্যযুগের কাব্য সাহিত্যে। এক্ষেত্রে বড়ু চণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণ কীর্ত্তন'সহ আরও অনেক বৈষ্ণব কবির অবদান রয়েছে। বিদেশী শাসকরা সনাতন ধর্মকে কলুষিত করার জন্যই হিন্দুর প্রাণপুরুষ শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র নষ্ট করে সাহিত্য রচনা করতে চণ্ডীদাসের মতো রাজসভার কবিদের উপঢৌকন দেন। বিদেশী শাসকের দুরভিসন্ধি আজ সফল হয়েছে। 

ষোল হাজার একশত গোপীর সাথে শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা সাহিত্যের কাহিনী হলেও এর পেছনে একটা ঐতিহাসিক সত্য লুকিয়ে আছে। দ্বাপর যুগে ভৌম নামে অত্যাচারী ও বিকৃত কামুক এক রাজা ছিলেন। ভৌমাসুর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে রাজকন্যা, ধনীকন্যা ও সুন্দরী নারীদের হরণ করে এনে তার অন্তরমহলে বন্দী করতেন। যৌনদাসী হিসেবে এই সকল নারীদের উপর জোরপূর্বক অত্যাচার করতেন। এসময় বিভিন্ন রাজ্যের রাজাগণ তৎকালীন আর্যাবর্তের শ্রেষ্ঠ বীর শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হন। ভৌমাসুরের অত্যাচার থেকে মুক্তি প্রার্থনা করেন সবাই। শ্রীকৃষ্ণ ভৌমরাজ্যে প্রবল হামলা করে ভৌমকে বধ করেন এবং ষোল হাজার একশত বন্দিনীকে মুক্তি দেন। এই কন্যাগণ যখন নিজ নিজ গৃহে ফিরে যায়, তখন সমাজ তাদের সহজভাবে গ্রহণ করেনি। এই বিপুল সংখ্যক নারী সমাজে অচ্ছুৎ ও ঘৃণিত হয়ে পড়ে। কন্যাদের পিতাগণ আবারও দ্বারকার অধিপতি প্রবল প্রতাপশালী শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হন। এরপর শ্রীকৃষ্ণ ঘোষণা দেন যে, এই ষোল হাজার একশত নারী তাঁর স্ত্রীর (অর্থাৎ দ্বারকার রানীর) মর্যাদা প্রাপ্ত হবে। তাদের অমর্যাদা হলে অবশ্যই তা দণ্ডযোগ্য হবে। এভাবে শ্রীকৃষ্ণ ষোল হাজার একশত নিগৃহিতা নারীকে সমাজে মর্যাদাসহ পুনর্বাসন করেছিলেন। এরকম মহান একটি ঘটনা হিন্দু সমাজ যেন লজ্জায় বলতে পারে না। অথচ ষোল হাজার একশত পরস্ত্রী গোপীর সাথে শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলাকে ইতিবাচকভাবে বৈষ্ণবকবিরা মানুষকে গিলিয়েছেন। যার ফলে একজন অমিত প্রভাবশালী বীর, কূটনীতিক, ধর্মসংস্থাপক ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শ্রীকৃষ্ণের পরিচয় হিন্দুদের কাছে গোপন থেকে গেছে তাকেঁ নিয়ে কাল্পনিক লীলাকাহিনীর আড়ালে।


প্রশ্ন-১৯। হিন্দু ব্যতীত সকল ধর্মেরই একজন প্রবর্তক আছেন। সকল ধর্মেই একজন আদর্শ মহামানব আছেন, যাকে অনুসরণ করা ওই ধর্মাবলম্বীদের অবশ্য কর্তব্য। হিন্দুধর্মে অনুসরণযোগ্য আদর্শ মহামানব কে এবং কেন?

উত্তর: প্রত্যেক ধর্মমতের একজন প্রবর্তক আছেন। ব্যতিক্রম হলো সনাতন বা হিন্দুধর্ম। এর কোন একক প্রবর্তক নেই। প্রাকৃতিকভাবে হাজার বছরের বিবর্তনের মাধ্যমে ক্রমবিকশিত ধর্মই হলো সনাতন ধর্ম। তারপরও বলা যেতে পারে, বৈদিক যুগের ঋষিগণ হলেন সনাতন ধর্মের প্রাচীনতম প্রবক্তা।

সনাতন ধর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা ধর্ম-অধর্ম নির্ধারণের জন্য চারটি ক্রম অনুসরণের বিধান আছে। যথা- বেদ, স্মৃতি, সদাচার, বিবেকের বাণী। অর্থাৎ বেদের সিদ্ধান্তই শিরোধার্য। কোন সমস্যার সমাধান যদি বেদ-এ পাওয়া না যায় তবে স্মৃতিশাস্ত্রের সিদ্ধান্ত জানতে হবে। এখানেও যদি সমাধান না হয় তবে মহান আদর্শ মানব ইতোপূর্বে এরূপ সংকটে কী সিদ্ধান্ত নির্ণয় করে গেছেন সেটা অনুসরণ করা কর্তব্য। তাও যদি জানা না থাকে, তবে বিবেকের বাণীই ধর্ম। একারণে অন্যান্য ধর্মমতের মতো একজন মানুষকে পরিপূর্ণ আদর্শ হিসেবে মেনে চলার রীতি হিন্দু সমাজে নেই। তবে ভারতবর্ষের ইতিহাসে একজন পরিপূর্ণ আদর্শ জীবনচরিত আছে যাঁর চরিত্র ও ব্যক্তিত্বের তুলনা শুধুমাত্র তিনি নিজেই। যিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ বীর যোদ্ধা, সুদক্ষ রাজনীতিবিদ, বিচক্ষণ কূটনীতিক, সাধুদের রক্ষায় যিনি ছিলেন দয়ার সাগর, অসাধুদের বিনাশ করতে যিনি ছিলেন কঠোরতম, আজীবন অধর্মের বিনাশ করে ধর্ম সংস্থাপন করতে নিরলস কাজ করে গেছেন, তিনি হলেন মহাভারতের মহানায়ক ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। গীতায় তিনি স্বয়ং নিজেকে মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ চরিত্র বলে উল্রেখ করে গেছেন। তাই কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। শ্রীকৃষ্ণের মূর্তিকে পূজা করার চেয়ে তাঁর চরিত্র ও কৃতিত্বের পূজা করা উচিত। সর্বোপরি তাঁর জীবনাদর্শ ও নির্দেশনা অনুসরণ করাই হলো তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উপাসনা।   

প্রশ্ন-২০। সনাতন ধর্ম গ্রহণ করে কোন অহিন্দু কি হিন্দু হতে পারে? কীভাবে?

উত্তর: বিশ্বের যেকোন ব্যক্তি বৈদিক সনাতন ধর্ম গ্রহণ করে আর্য বা হিন্দু হতে পারেন। সনাতনের মূল ধর্মগ্রন্থ বেদ স্বয়ং নির্দেশ দিয়েছেন, "কৃন্বন্তু বিশ্বমার্য়ম" অর্থাৎ বিশ্বের সকলকে (বৈদিক ধর্মে দীক্ষিত করে) আর্য বা হিন্দু করো। তাই যুগে যুগে লক্ষ লক্ষ মানুষ সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছে এবং আজও করছে। বর্তমানে ইসকন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আর্য সমাজ, স্বামী নারায়ণ সংস্থা, আনন্দ মার্গ, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ইত্যাদি সংস্থা বিশ্বব্যাপি অহিন্দুদের সনাতন ধর্ম গ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়ে থাকে। সনাতন ধর্মকে ভালবেসে এর যেকোন মত বা আশ্রমের অনুগত হয়ে যেকোন ব্যক্তি পবিত্র স্থানে উপস্থিত হয়ে করজোড়ে অথবা পবিত্র গীতাগ্রন্থ স্পর্শ করে সংকল্প করার মাধ্যমে সনাতন ধর্ম গ্রহণ করতে পারেন। এসময় তিনি পবিত্র গায়ত্রী মন্ত্র বা 'হরে কৃষ্ণ' মহামন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সংকল্প করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে শুদ্ধিযজ্ঞ করার মাধ্যমেও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সনাতন ধর্ম গ্রহণপূর্বক নতুন হিন্দু নাম ধারণ করার বিষয়ে ঘোষণা (এফিডেভিট) করতে হবে। 

প্রশ্ন-২১। অন্যান্য ধর্মের দৃষ্টিতে সনাতন ধর্ম ও হিন্দুদের অবস্থান কেমন?

উত্তর: 

প্রশ্ন-২২। সতীদাহ প্রথার মতো জঘণ্য রীতি যে ধর্মে থাকতে পারে, সেটা ভাল ধর্ম হয় কী করে? হিন্দু নারী পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না। স্বামী দুশ্চরিত্র বা নপুংসক হলে বা শত অত্যাচার করলেও ডিভোর্স/তালাক দিতে পারে না। হিন্দু নারীর আদৌ কি কোন মর্যাদা বা অধিকার আছে? 

উত্তর:

প্রশ্ন-২৩। হিন্দু বিধবা কি পুনরায় বিয়ে করতে পারে? ধর্ম ও আইন কী বলে? স্বামী পরিত্যাক্তা নারী কি পুনরায় বিবাহ করতে পারে?

উত্তর:

প্রশ্ন-২৪। সনাতন ধর্মে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ কোথায় নিষেধ করা আছে? হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না, কিন্তু গরুর চামড়া ব্যবহার করেন কেন?

উত্তর:

প্রশ্ন-২৫। বিভিন্ন ধর্মে নারীর মর্যাদা কেমন? সতীদাহ বনাম অনার কিলিং।

উত্তর:

প্রশ্ন-২৬। পঞ্চমহাযজ্ঞ কী? মানবিক, উন্নত ও সুন্দর মানব সমাজ ও পৃথিবী নির্মাণে পঞ্চমহাযজ্ঞ কীরূপ অবদান রাখতে পারে? পিতা-মাতার সেবা, পূর্বকালীন মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীব সেবা, বৃক্ষরোপন, সমাজ সেবা ইত্যাদি বিষয়ে হিন্দুধর্মের নির্দেশনা কী?

উত্তর:

প্রশ্ন-২৭। সনাতন ধর্মের একটি প্রধান স্তম্ভ "জন্মান্তরবাদ" কী? এর সত্যতার পক্ষে কোন যুক্তি আছে কি? বাস্তবে পুনর্জন্মের ঘটনা কি কখনো ঘটেছে? আধুনিক বিজ্ঞানীদের গবেষণা এ সম্পর্কে কী বলে?

উত্তর:

প্রশ্ন-২৮। সনাতন ধর্মের অপর একটি প্রধান স্তম্ভ "কর্মবাদ" কী? কর্মফল মানুষের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে? 

উত্তর:

প্রশ্ন-২৯। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মৃতদেহ দাহ করেন কেন? এটা কি অমানবিক নয়? এর শাস্ত্রীয় বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? এরকম নিয়ম পৃথিবীর আর কোন সমাজে কি ছিল বা আছে?

উত্তর:

প্রশ্ন-৩০। সভ্য মানুষ হয়ে 'শিবলিঙ্গ' পূজা করা কি লজ্জাকর নয়? হিন্দুরা কি শিবের পুরুষাঙ্গকে পূজা করে? শিবলিঙ্গ পূজার ইতিহাস কী? তাৎপর্য কী?

উত্তর:

প্রশ্ন-৩১। কেউ জন্মগ্রহণ করলে কেন অশৌচ পালন করতে হবে? এটা তো ঠিক না। কারও মৃত্যুর পর অশৌচ পালনের ব্যাপ্তিকাল একেক বর্ণের জন্য পৃথক কেন? সবার জন্য সমান নিয়ম হওয়া উচিত নয় কি? শ্রাদ্ধ কেন করা হয়?

উত্তর:

প্রশ্ন-৩২। মৃত্যুর সময় ঈশ্বরকে স্মরণ করা কি আদৌ সম্ভব? কেনই বা ঈশ্বরকে স্মরণ করা আবশ্যক? দেহত্যাগ বা মৃত্যুবরণ করার সময় কী করণীয়? 

উত্তর:

প্রশ্ন-৩৩। মৃত্যুর পর আমরা কোথায় যায়? কী করি? মৃত্যুর পর আমাদের আদৌ কি কোন অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকে? স্বর্গ ও নরক কি আদৌ আছে?

উত্তর:

প্রশ্ন-৩৪। হিন্দুধর্ম অনুযায়ী বিশ্বজগতের সৃষ্টিতত্ত্ব কী? আধুনিক বিজ্ঞানের সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে কি তা সামঞ্জস্যপূর্ণ? নাকি আজগুবি পৌরাণিক কাহিনী?

উত্তর:

প্রশ্ন-৩৫। সকালে ঘুম থেকে উঠা হতে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত নিত্যকর্ম কী কী হওয়া উচিত? প্রত্যেক হিন্দুর প্রাত্যহিক উপাসনা কীরূপ হওয়া উচিত? নিত্য ব্যবহার্য মন্ত্রসমূহ কী কী?

উত্তর:

প্রশ্ন-৩৬। পূজা করতে কেন ব্রাহ্মণ পুরোহিত লাগবে? নিজের পূজা কি নিজে করতে পারব না? মেয়েরা কি পূজা করতে পারে? 

উত্তর:

প্রশ্ন-৩৭। জাকির নায়েক দাবি করেন, হযরত মুহাম্মদ নাকি হিন্দুদের কল্কি অবতার। তাই হিন্দুদের উচিত তাদেঁর ভগবান বিষ্ণুর শেষ অবতার হযরত মুহাম্মদের নির্দেশ মান্য করা (অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণ করা)। পবিত্র বেদগ্রন্থে নাকি হযরত মুহাম্মদের নাম উল্লেখ আছে? ভবিষ্য পুরাণে নাকি স্পষ্ট করেই হযরত মুহাম্মদের কথা বলা হয়েছে? সত্যিই কি তাই? কী লেখা আছে ভবিষ্য পুরাণে? অল্লোপনিষদ গ্রন্থে নাকি আল্লাহ্ ও নবী মুহাম্মদের গুণকীর্তন করা হয়েছে? এই গ্রন্থের পরিচয় কী? হিন্দুদের এখন কী করা উচিত?

উত্তর:

প্রশ্ন-৩৮। 'নমস্কার' শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য কী? কাকে নমস্কার করা যায়? অনেকেই নমস্কারের পরিবর্তে জয়গুরু, হরে কৃষ্ণ, হরিবোল, নমস্তে, আচ্ছালামু আলাইকুম, হাই, হ্যালো ইত্যাদি বলে থাকে; কোনটা সঠিক বা যুক্তিযুক্ত? 

উত্তর:

প্রশ্ন-৩৯। অনেকের অভিযোগ, হিন্দুদের পূজা মানেই উন্মত্ত নাচ-গান, লাইটিং, ডিজে, মদ-গাঁজা সেবন ইত্যাদি। এগুলো কী করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুষঙ্গ হতে পারে? প্রকৃতপক্ষে কেমনটা প্রত্যাশিত? পূজা ও ধর্মোৎসবে কী করা উচিত ও অনুচিত?

উত্তর:

প্রশ্ন-৪০। বহুধাবিভক্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ সনাতন ধর্ম, হিন্দু জাতি ও সংস্কৃতির মাঝে ঐক্য কীভাবে সম্ভব? আদৌ কি সম্ভব? ইতিহাস তো এমন কথা বলে না।

উত্তর:

প্রশ্ন-৪১। 'লাভ জিহাদ' একটা মুখরোচক শব্দ নাকি বাস্তবতা? ব্যাপারটা কী? কেন ঘটছে? কীভাবে ঘটছে? পরিণাম কী? এর করাল গ্রাস থেকে হিন্দু জাতিকে বাঁচানোর উপায় কী?

উত্তর:

প্রশ্ন-৪২। হিন্দু জাতির ভাল দিক ও মন্দ দিকগুলো কী কী? বাংলাদেশী হিন্দুদের বর্তমান সমস্যাসমূহ ও সমাধানের উপায় কী কী?

উত্তর:

প্রশ্ন-৪৩। নিরামিষ আহার কি হিন্দুধর্মের একটি মূল নির্দেশনা? সাত্ত্বিক আহার মানেই কি নিরামিষ আহার? বেদ ও গীতায় সাত্ত্বিক আহার বলতে কী বোঝায়? মাছ-মাংস খাওয়ার বিধান কি আছে?

উত্তর:

প্রশ্ন-৪৪। "অহিংসা পরম ধর্ম", "জীবহত্যা মহাপাপ" এগুলো সনাতন ধর্মেরই নীতি। কিন্তু গীতায় অর্জুন মানবিক বিবেচনায় যুদ্ধ করতে না চাইলেও শ্রীকৃষ্ণ কেন তাকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন? আততায়ী কারা? কোন জীবকে হত্যা করলে কোন পাপ হয় না? কাকে হত্যা করলে পাপ হয়? জীবহত্যা পাপের প্রায়শ্চিত্ত কী? হিন্দুধর্মে 'অহিংসা নীতি'র স্বরূপ কেমন?

উত্তর:

প্রশ্ন-৪৫। হিন্দুধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে চাই। 

উত্তর:

প্রশ্ন-৪৬। হিন্দুদের দেশপ্রেম কম। তাই সামান্যতেই স্বদেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যায়। হিন্দুধর্ম কি দেশপ্রেম শিক্ষা দেয় না?

উত্তর:

প্রশ্ন-৪৭। ইসলামের মূলমন্ত্র যেমন 'কালেমা তাইয়্যেবা', সনাতন ধর্মের মূলমন্ত্র কোনটা? তার অনুবাদসহ তাৎপর্য কী? 'হরে কৃষ্ণ' কি আদৌ কোন মহামন্ত্র? এই মন্ত্রের প্রকৃত অর্থ কী? 

উত্তর:

প্রশ্ন-৪৮। হিন্দু বিবাহ কেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিবাহ? শ্রেষ্ঠত্বের কারণগুলো কী? হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদযোগ্য নয় কেন? বিচ্ছেদের কি কোনই সুযোগ নেই?

উত্তর:

প্রশ্ন-৪৯। হিন্দুরা রাজনীতি বিমুখ কেন? হিন্দুদের ব্যক্তিজীবনে ও সামষ্টিক জীবনে রাজনীতি নেই কেন? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাম উভয়েই তুখোর রাজনীতিবিদ ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তার ভক্ত 'অরাজনৈতিক' হিন্দুরা সর্বদা নম্র-নত, নপুংসক, ভীতু, কাপুরুষ, আপোষকামী ও পলায়নপর মানসিকতার কেন?

উত্তর:

প্রশ্ন-৫০। হিন্দুদের গর্ব করার মতো কিছু কি আছে? হিন্দুরা আত্মমর্যাদাহীনতা ও হীনমন্যতায় ভোগে কেন?

উত্তর: অজ্ঞানতা মানুষকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। বর্তমান হিন্দুরা ইতিহাস বিস্মৃত। বাল্যকাল থেকেই বিদ্যালয়ে এমন কিছু পড়ানো হয় না যাতে হিন্দুরা তাদের অতীত সম্পর্কে জানতে পারে, পূর্বপুরুষদের কীর্তি সম্পর্কে জানতে পারে। সাধারণ অভিভাবক বা ভক্তজনদের কথা বাদই দিলাম, শিক্ষিত হিন্দুরাও শাস্ত্র পাঠ করে না। ইতিহাস, রামায়ণ, মহাভারত বা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ধর্ম-দর্শনের ফলিত বিষয়গুলো নিয়ে কোন পড়াশোনা নেই তাদের। আত্মজ্ঞান হবে কী করে? অতীত বিস্মৃত মূর্খ মানুষ তার স্বধর্ম ও স্বজাতি নিয়ে গর্বিত হবে কী করে?

পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্য জাতি ছিল আর্যগণ। মহেঞ্জোদারো-হরপ্পাতে আর্যগণ গড়ে তুলেছিলেন প্রাচীনতম সিন্ধু সভ্যতা। সেই সভ্যতার উত্তরসূরি বর্তমান হিন্দু জাতি। বিশ্বের প্রাচীনতম লিখিত ধর্মশাস্ত্র হলো বেদ। বেদ কোন মানুষ রচনা করেনি। বেদ অপৌরুষেয়। আর্য ঋষিদের ধ্যনলব্ধ ঈশ্বর প্রেরিত সত্য জ্ঞান হলো বেদ। বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান। যে বেদ মানে না, সে জ্ঞানকে অস্বীকার করে। এই পরমপবিত্র বেদ গ্রন্থে রয়েছে ঈশ্বরকে উপাসনার নানা উপায়ের বিস্তৃত বর্ণনা, ঈশ্বরের স্বরূপ, ঈশ্বরকে লাভের নানা পথের কথা। চিকিৎসা বিজ্ঞান বা আয়ুর্বেদ, সমরবিদ্যা বা ধনুর্বেদ, বাস্তুবিদ্যা ইত্যাদি রয়েছে বেদে। সাম বেদ থেকে পৃথিবীতে সঙ্গীত বা গান এলো। যজ্ঞের বেদী হতে জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি এলো।

সংখ্যাতত্ত্ব, পাটিগণিত ও বীজগণিত এসেছে হিন্দু ঋষিদের কাছ থেকেই। যে শূন্য (০) ছাড়া সকল গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান অচল হয়ে পড়ে, সেই শূন্যের আবিষ্কর্তা হিন্দু ঋষি। ভাস্করাচার্য, বরাহমিহির, ব্রহ্মগুপ্ত প্রমুখ গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদের কাছে আধুনিক বিজ্ঞান চিরঋণী। চাদেঁর যে নিজস্ব আলো নেই এবং পৃথিবী যে মহাশূন্যে ভাসমান অবস্থায় সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে এই তথ্যগুলো বেদেই রয়েছে। বেদে উল্লেখিত বিশ্বজগত সৃষ্টিতত্ত্ব আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত, বরং বিজ্ঞানের চেয়েও বেশি কিছু। সৌরজগতে নবগ্রহের বর্ণনা হিন্দুরাই সবার আগে দিয়েছেন। প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং শল্যচিকিৎসা বা সার্জারি বিদ্যার আদি প্রবর্তক হলেন মহর্ষি চরক ও সুশ্রুত।

এরিস্টটলেরও বহুপূর্বে রাষ্ট্রবিজ্ঞান আলোচিত হয়েছে বেদে। এরপর মনুস্মৃতিসহ বিভিন্ন স্মৃতিশাস্ত্রে তা সুবিন্যস্ত হয়েছে। বিশ্বের প্রাচীনতম শিক্ষাব্যবস্থা 'গুরুকুল' এই ভারতেই ছিল। দুই হাজার বছর আগে আরব, আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল, সভ্যতা যখন সেখানে বিকশিত হয়নি তখন সুসভ্য ভারতবর্ষে চলছিল স্বর্ণযুগ। অর্থনীতি, রাজনীতি, সামরিক শক্তি, বাণিজ্য, শহরায়ন ও নাগরিক সুবিধায় বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ছিল ভারত। নালন্দা ও তক্ষশিলার মতো প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় এই ভারতেই ছিল।  ঋষি ভরদ্বাজের বৈমানিক শাস্ত্রে বিমান তৈরির কথা আছে। রামায়ণ, মহাভারতে আমরা বিমান এবং ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহারের উল্লেখ পাই। আধুনিক বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন ব্যাপক ধ্বংসাত্মক প্রাচীন ব্রহ্মাস্ত্র মূলত বর্তমান পারমাণবিক অস্ত্রই ছিল।

উদ্ভিদের যে প্রাণ আছে সে কথা বিজ্ঞানীদের বহু আগে আমাদের বেদেই বলা হয়েছে। উদ্ভিদকে জীব বলা হয়েছে, জীবসেবার কথা বলা হয়েছে, সকল জীবের শান্তির কথা বলা হয়েছে, সর্বজীবের মাঝে ঈশ্বরের মহিমার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বে একমাত্র সনাতন ধর্মই জগতের সকল জীবের শান্তি প্রার্থনা করে। সনাতন ধর্মই একমাত্র সর্বজনীন ধর্ম। এই ধর্ম হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাদা-কালো কোন জাতি-বর্ণ বিচার করে না। মানুষকে মানুষ বলেই ডাকা হয়েছে। এত মহত্তম ধর্ম আর তো নেই। এই ধর্ম শত্রুদের জন্যও শান্তি ও মঙ্গল প্রার্থনা করতে বলে। কোন উগ্রতা, অহংকার বা হিংসা-বিদ্বেষ শেখায় না। তাই কোন হিন্দু কখনো অন্য ধর্মের মানুষকে অযথা উৎপীড়ন করে না, অপরের ধর্মস্থানে আঘাত করে না, অন্যের ধর্মচর্চায় বাধা দেয় না বরং সহায়তা করে। কারণ হিন্দুরা বিশ্বাস করে "একমেবাদ্বিতীয়ম্" - ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। সকল মানুষ যেভাবেই উপাসনা করুক না কেন, আত্মশুদ্ধির পথে এক ঈশ্বরেরই উপাসনা করে। অপরকে ফুঁসলিয়ে ধর্মান্তরিত করে হিন্দু বানাতে বলে না সনাতন ধর্ম। কারও জমি দখল, নারী অপহরণ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, হুমকির মাধ্যমে বিধর্মীদের দেশান্তরিত করতে বলে না কোন হিন্দুশাস্ত্র। বরং বিপদে অপরের উপকার করা, জগতের সকল নারীকে মাতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করা, শিব জ্ঞানে জীব সেবার কথা বলে এই ধর্ম। এমনকি আক্রমণকারী বা অপরাধীকেও ক্ষমা করে শোধরানোর সুযোগ দিতে বলেছে হিন্দুশাস্ত্র। এরই প্রতিফলন আমরা ইতিহাসে পাই। বিগত কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে ভারতের কোন হিন্দু সম্রাট কখনো ধর্মের ধ্বজা উড়িয়ে বিশ্বজয় করতে যায়নি। কারণ ধর্ম কখনোই জোর-জবরদস্তির ব্যাপার হতে পারে না। 

বাঙালি হিন্দুর ইতিহাস বলে, এদেশের হিন্দুরা কখনোই রাষ্ট্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। বরং দেশের জন্য অকাতরে উজাড় করে দিয়েছে নিজেদের সর্বস্ব। পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুদ্ধ করেছিলেন বিশ্বস্ত হিন্দু সেনাপতি মোহনলাল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে শুধু হিন্দু বিপ্লবীরাই অকাতরে সংগ্রাম করে হাসিমুখে জীবন দিয়েছে স্বাধীনতার জন্য। সূর্যসেন, প্রীতিলতা, ক্ষুদিরামদের বংশধরই এই বর্তমান বাঙালি হিন্দুরা। ভারত বিভক্ত হলে পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে হারাতে হয়েছে জীবন, সম্ভ্রম, ভূ-সম্পত্তি সবকিছু। তারপরও আমাদের পূর্বপুরুষরা স্বদেশ, পিতৃভূমি ছেড়ে দেশত্যাগ করেনি। "জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী" এই জ্ঞানে পাকিস্তানেই থেকে গিয়েছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যখন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন সকল মুসলিম সংসদ সদস্য চুপ ছিলেন। একমাত্র গর্জে উঠে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি তোলেন প্রাতঃস্মরণীয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। এরপর রাষ্ট্রভাষার দাবিতে সোচ্চার হয় বাঙালি। ৪৮ থেকে ৭১ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ও বাঙালির স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি আন্দোলনে সংখ্যালঘু হিন্দুরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুরাই একমাত্র জাতি যারা শতভাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল এবং তার জন্য অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে। এদেশে পাকিস্তানী সেনারা মূলত হিন্দুদেরকেই মারতে এসেছিল। নয় মাসের যুদ্ধে প্রায় চব্বিশ লাখ হিন্দুকে হত্যা করে আর প্রায় দেড় লাখ হিন্দু মা-বোনকে ধর্ষণ-নিপীড়ন করে পাকিস্তানী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর। গ্রামের পর গ্রাম তারা বেছে বেছে হিন্দু পাড়াগুলোকে মূলত টার্গেট করতো। প্রায় এক কোটি হিন্দুকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে শরণার্থী হতে হয়। এরপরও হিন্দুরা স্বদেশে ফিরে এসেছে, নিজের দেশ স্বাধীন বাংলাদেশে। সংখ্যালঘু ও নিরীহ সম্প্রদায় হয়েও হিন্দুরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে স্বদেশে সগর্বে বেঁচে থাকার। তাই হিন্দু হয়ে জন্মানোতে লজ্জার কিছু নেই। বরং গর্বের আছে অনেক কিছু।

 

 

উপস্থাপিত এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ধাপে ধাপে দিচ্ছেন শ্রীমাণিক রক্ষিত, প্রতিষ্ঠাতা, আত্মশক্তি ফাউন্ডেশন, ঢাকা।

আপনার মতামত জানাতে পারেন এই ই-মেইল ঠিকানায়: atmashakti4u@gmail.com